ফ‍্যাসিস্টের বর্বর হত্যাযজ্ঞ ও একই সাথে  সুযোগসন্ধানী তৃতীয় পক্ষের  লাশের রাজনীতি : কোনটা দায়মুক্তি , কোনটা বিচার্য  বিষয়!


মোঃ অহিদুজ্জামান (রুমু): আজ ৫ আগষ্ট ২০২৬, রেজিম পরিবর্তনের দু বছর পূর্তি।

ছোট করে prelude না করলেই নয় কারণ পরবর্তী অধ্যায়গুলো এই পটভূমির সাথে সম্পর্কিত।

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিগত সতেরো বছরের মানবাধিকার লঙ্ঘন, গনতান্ত্রিক অধিকার হরণ , আইনের শাসন ধ্বংসের পন্জীভূত গনক্ষোভের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলোর এজেন্ডা ঐ আন্দোলনে  সঞ্চারিত  হয়। আন্দোলনে সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা আনতে  বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি গুলো শিরোনামহীন ভাবে মিলেমিশে ছিল। ফ‍্যাসিস্ট সরকারের বলপ্রয়োগ ও  হত্যাযজ্ঞের সহিংসতায় নিহত ও আহত হয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমবয়সী ছাত্র, সাধারণ জনতা যাদের বেশীরভাগই ছিল রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে থাকা সাধারণ মানুষ ও সীমিত সংখ্যক মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মী যার বৃহৎ অংশ বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের ও জনআবেগবৃদ্ধিকারক নিষ্পাপ শিশু। আর তখন নামধারী রাজনৈতিক নেতারা যায় জেলে।

৫ আগস্ট ,২০২৪ পরবর্তী সময়ে সামনে আসতে শুরু করলো ফ‍্যাসিস্টের হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি, সুযোগসন্ধানী তৃতীয় একটা পক্ষের দ্বারা সংঘটিত লাশের রাজনীতি বা ক্লুলেস  কিছু ভয়ঙ্কর  হত্যাযজ্ঞের খন্ডচিত্র ও সেগুলোর তথ্য প্রমাণে সহায়ক interim government এর আমলে কিছু fact-checking statements. পুরা বিষয়টির সারকথা এমন ছিল – ফ‍্যাসিস্ট সরকারের উপর  চাপ বাড়াতে ও দোষারোপ Specific করতে বলিদান – এই ক্লুলেস হত্যার বেশিরভাগই ছিল কমবয়সী ছাত্র, শিশু ও অরাজনৈতিক সাধারণ জনগণ। 

যেজন্য এই  নিবন্ধ লেখার চেষ্টা – কমবয়সী ছাত্র, শিশু ও অরাজনৈতিক সাধারণ জনগণের ঐ সমস্ত  ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ও পঙ্গুত্ব বরন করার দায় কি ঢালাও ভাবে ফ‍্যাসিস্টের উপর নাকি আংশিকভাবে একটা তৃতীয় পক্ষের লাশের রাজনীতিরও দায় আছে? যদি দায় থাকে, তাহলে ফ‍্যাসিস্ট সিন্ডিকেটের চলমান বিচারের মতো এই তৃতীয় পক্ষের লাশের রাজনীতি ও অসংখ‍্য নিরীহ জনসাধারনের পঙ্গুত্ব বরন করানোর আইনি প্রতিকার কি? 

হ‍্যাঁ, এর  আইনি প্রতিকার আছে। জুলাই দায়মুক্তি অধ‍্যাদেশ,  ২০২৬ এর আলোকে কোন ভাবেই কোন পক্ষকে চাপ সৃষ্টি করতে তৃতীয় পক্ষের লাশের রাজনীতি  জুলাই দায়মুক্তি অধ‍্যাদেশ , ২০২৬ এর আওতায়ভূক্ত নয়।

জুলাই দায়মুক্তি অধ‍্যাদেশ ২০২৬ এ শুধুমাত্র আত্মরক্ষা ও  বৈষম্যবিরোধী রাজনৈতিক প্রতিরোধকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো পক্ষকে ফাঁসাতে কোনো তৃতীয় পক্ষ যদি সাধারণ নাগরিককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হত্যা করে, সেক্ষেত্রে কোনো ভাবেই রাজনৈতিক প্রতিরোধ বা আত্মরক্ষা হিসেবে গণ্য হবে না। এটি একটি জঘন্য অপরাধ এবং কোনো অবস্থাতেই এর দায় মুক্তি নেই। প্রচলিত আইন অনুযায়ী এটি দন্ডবিধি (penal Code, 1860) এর ৩০২ ধারা ( পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড), ১২০-বি (অপরাধ মূলক যড়যন্ত্র), ৩৪ (সাধারণ অভিপ্রায়) এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর অধীনে রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে ভুক্তভোগী পরিবার যে কোনো সময় সরাসরি থানায় (এমআরআই) বা কোর্টে সি আর মামলা দায়ের করতে পারবে।
এছাড়া, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা গণহত্যার অভিযোগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও বিচার চাওয়ার পথ খোলা আছে। দ্বিতীয়ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করিয়ে প্রচলিত আইনেই বিচার চাওয়া যেতে পারে। 
সেক্ষেত্রে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ঘটনার সত‍্যতা প্রমাণের জন্য নুন্যতম কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ- যেমন হাসপাতাল বা পুলিশ রেকর্ড, ময়না তদন্তের রিপোর্ট, ডেথ সার্টিফিকেট – যা এখনও সরকারি বা দাপ্তরিক আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকার কথা ইত্যাদি সরবরাহ করা জরুরি।

লাশের রাজনীতি সংঘটিত করতে সাধারণ নিরীহ জনগণ হত‍্যা কোনো নির্দিষ্ট তৃতীয় পক্ষ বা মাস্টারমাইন্ডের ইন্ধনে সংঘটনের প্রমাণের জন্য ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, কল রেকর্ড ট্র্যাকিং এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি এখনো রেকর্ড করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় প্রাণ হারানো সাধারণ মানুষের প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে থাকা আসল দোষী বা ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আইনেই সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থাও সম্ভব। 

প্রমান সাপেক্ষে তৃতীয়  পক্ষের দ্বারা “লাশের রাজনীতির শিকার” ভিকটিম পরিবারগুলোও ফ‍্যাসিস্টের  হত্যাযজ্ঞের শিকারের পরিবারের মতো ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন। 

দ্বিতীয়ত: ঘটনা দুই বছর পার হয়ে গেলেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বিচার পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়নি। প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখনো প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার বা এফআইআর দায়ের করতে পারবে। পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সংক্ষেপে ২৪ এর অভ‍‍্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে এটা নিশ্চিত করতে হবে – অভ‍‍্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে   কিছু টার্গেটিভ ও উদ্দেশ্যমূলক হত‍্যা ও পঙ্গুত্বের দায় তদন্তসাপেক্ষে পতিত ফ‍্যাসিস্ট সরকার অথবা লাশের আবেগ সৃষ্টিকারী তৃতীয় পক্ষকেই নিতে হবে। রাষ্ট্রের কাছে সাধারণ নিরীহ জনগণের অপঘাতে মৃত্যু দায়হীন থাকতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Deneme Bonusu Veren Siteler | Deneme Bonusu | Deneme Bonusu Veren Siteler | Bedava Bonus Veren Siteler | Deneme Bonusu | Grandpashabet | Casino Siteleri | Deneme Bonusu Veren Bahis Siteleri | Deneme Bonusu Veren Casino Siteleri | Deneme Bonusu Veren Siteler 2026 | Casino Siteleri | Deneme Bonusu Veren Siteler | Deneme Bonusu 2026 | Deneme Bonusu Veren Yeni Siteler | Bonus Veren Siteler | Deneme Bonusu Veren Yeni Siteler | Deneme Bonusu Veren Siteler 2026 | Deneme Bonusu Veren Güvenilir Siteler | Casino Siteleri | Deneme Bonusu Veren Siteler | Bedava Deneme Bonusu | Deneme Bonusu Veren Siteler | Yatırımsız Deneme Bonusu | Bahis Siteleri | Deneme Bonusu | Bahis Siteleri | Deneme Bonusu